Saturday, March 17, 2012

রাতের আঁধারে আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা (না পরলে মিস করবেন)

তখন রাত ঠিক ১২ টা ২৪ মিনিট, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২।
আমি গাজীপুরে কাজ শেষ করে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে। এত রাতে মতিঝিল যাব কি করে? আমার বাসা ওখানে।
রাস্তায় দু-চারটা কুকুর ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। বুঝলাম বাসায় যাওয়া হবে না। তাই ঠিক করলাম মামার বাসায় যাব। মামার বাসা শিববাড়ি শ্মশান গাঁট। মামাকে ফোন করলাম। সে মুটামুটি ঘুমের ঘোরে। আমাকে তার বাসায় যেতে বলল। এমন সময় সামনে একটা টেম্পু দেখতে পেলাম, শিববাড়ির দিকে যাচ্ছে। এক দৌড় দিয়ে উঠলাম। ঠিক ১২ টা ৩৪ মিনিট আমি শিববাড়ি পৌঁছে গেলাম। রাস্তায় কোন রিকসা নাই,এখন শ্মশান গাঁট যাব কি করে। এত রাতে পোঙ্গামারা খাওয়ার সম্ভাবনা অতি। তাই হেঁটে যাওয়ার রিস্কটা নিতে চাচ্ছিলাম না। ঠিক এমন সময় একটা লোকাল বাস আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমি অতি উৎসাহের সহিত জিজ্ঞাস করিলাম, কই জাইব মামা? সে উত্তর দিল "ঢাকা"।
আমি একখানা বড় লম্ফ মারিয়া বাস খানায় উঠিয়া পরিলাম। মোটামোটি ১৮-২০ জন যাত্রী ছিল। আমি কানে হেডফোন লাগাইয়ে গান শুনিতে লাগিলাম।
বাস পুনরায় চৌরাস্তা ছাড়িয়া ঢাকা মুখি পথে চলতে লাগল। এরই মধ্যে কিছু যাত্রী উঠানামা করল। হটাৎ খেয়াল করিলাম রাতের মানুষরা অনেকটা ভিন্ন প্রকৃতির। অনেক শ্রেণী পেশার মানুষ যাদের দিনের বেলা তেমন দেখা যায় না। রাতে বাস ভাড়া বেশি, দিনের ১.৫ গুন। অনেকে ভাড়াও দিতে পারে না। আমার দেখা তিনজন ভাড়া দিতে পারল না। কনট্রাকটর তাদের কিছু বলল না। শুধু বলল বইসা থাকতে। এরপর একসময় ওরা বাস থেকে নেমে পরল। এমনি ভাবে কেটে গেল আরও কিছুক্ষণ লক্ষ করলাম বাস এর যাত্রী আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। একসময় বাস পুরাই খালি হইয়া গেল। বাসএ আছি আমি, ড্রাইভার আর কনট্রাকটর। রাস্তায় মাঝেমাঝে একটা দুইটা ট্রাক দেখা যায়। ড্রাইভার আমাকে সামনে যেতে বলল। আমি গেলাম। সে আমাকে বলল সে আর যেতে পারবে না। বাস এ যাত্রী নাই। তার নাকি মতিঝিল যেতে ২০০০ টাকার তেল পুরবে। সে হাইদা পোঙ্গামারা খাইতে নারাজ। তখন রাত ১ টা ৩০ মিনিট । সে আমাকে আব্দুল্লাপুর নামাইয়া দিতে পারে। এর বেশি সে যাবে না। বাস এর সামনের সিট এ বইসা পোঙ্গামারা হজম করলাম। আমার নামার সময় হল। এমন সময় একটা বি আর টি সি পিছন থেকে আসতেছে। বাস এর ড্রাইভার রাস্তা ব্লক করল। আর আমকে ঐ বাসএ গিয়া উঠতে বলল। ঐ বাস নাকি এয়ারপোর্ট যাবে। আমি নামব, ঠিক তখন কয়েকটা যাত্রী এসে বাস এ উঠল। যাত্রী দেইখা ড্রাইভার হালার ত বিচি কান্ধে। সে কয় এখন সে নাকি জাইব। ওকে
আবার বাস চলতে লাগল। অবশেষে এয়ারপোর্ট আইসা সবাই নাইমা পরল। এখানে কয়েকটা দোকান ছাড়া আর কিছু খোলানাই। কোন গাড়ি ও নাই। এখন কি করি?? একটা বিড়ি জালাইয়া রাস্তায় খারাইয়া চিন্তা করতে লাগলাম। এখন কি করুম...।
কোন ট্রেন ও নাই। ভাবলাম খালার বাসায় চইলা জামু। এয়ারপোর্ট দক্ষিণখান খালার বাসা। জেই কথা সেই কাজ। একটা ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি থেকে ডাকতাছে দক্ষিণখান দক্ষিণখান...! আমি পদ পিষ্ট করিয়া বিড়ি খানা নিভাইয়া, দিলাম এক দৌড়। গিয়া অটো গাড়িতে উঠিয়া বসিলাম। দেখলাম খুব ভাল প্রজাতির মানুষ সেখানে নাই। সবাই পিনিকে !! ড্রাইভারও পিনিকে পিনিকে আস্তে ধীরে অটো চালাইতাছে। রাত ২ টা সময় এর চেয়ে ভাল কি আর আসা করা যায়... হাজীক্যাম্প পার হওয়ার পর একজন নামিয়া পড়িল। নির্জন রাত, আশে পাশে কোন সাড়া শব্দ ও নাই। এরই মধ্যে আমার পিতা মহাশয় ফোন করিয়া
করিয়া পাগল করিয়া দিতাছে। এমন সময় অটো ব্রেক করল। আমি ভাবলাম এই বুঝি পোঙ্গামারা খাওয়ার টাইম হইল। কিন্তু না। এক কমলা সুন্দরী (আমরা যাদেরকে যৌনকর্মী বলি) অটোতে উঠে বসল। পাশের এক গলি থেকে এক ল্যাচ্চর সম্রাট তাকে ভোগ করিয়া রাস্তায় ছাড়িয়া দিয়া গেল। কমলা সুন্দরীকে দেখিয়া বুঝাই যাচ্ছিল, এই মাত্র সে কাম দিয়া রাস্তায় বের হইয়েছে। তার কাপড় চোপড় ও একটু অগছালো ছিল। ব্লাউজের পাশদিয়া ব্রা এর ফিতা বের হইয়া ছিল। কমলা সুন্দরী আমার ঠিক সামনে বসিয়া ছিল। আমার ঠিক পাশের জনের দিকে তাকাইয়া দেখি ঐ সালা হা কইরা তাকাইয়া সুন্দরীর ব্রা গিলতাছে। কমলা সুন্দরী চোখের পাতার নিচ দিয়া মিটমিট কইরা আমার দিকে তাকাইতাছে। আমি অন্য দিকে তাকাইয়া আছি। এমন সময় আবার ও এক জন নামিয়া পড়িল। এখন অটোতে আছি আমি, ব্রা গিলা লোক আর কমলা সুন্দরী। সুন্দরী আমার হাঁটু তে একটা খুঁচা দিল। আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম, বুঝলাম মাগি আরও **** খাইতে চায়। সে আবার কাস্টমার খুজতাছে। সে আবারো হাঁটু তে একটা খুঁচা দিল আর বলল ইয়েয়ে...ভাইয়া। আমি বললাম কি?? সে আবার বলল ইয়েয়ে...ভাইয়া। এই বার আমি জোরেই বললাম কি হইছে?? সে চুপ হইয়া গেল। এরই মধ্যে আমি দক্ষিণখান বাজার এসে পরলাম। তখন রাত ২ টা ৩০ মিনিট, আমি অটো গাড়ি থেকে নামলাম। সব কিছু আপরিচিত লাগছে। দোকান পাঠ সব বন্ধ। পিছনে এক নজর ফিরে তাকালাম, দেখলাম ব্রা গিলা লোক আর কমলা সুন্দরী নষ্টামো শুরু কইরা দিছে। কিছু না ভাবিয়া হাঁটা আরম্ব করলাম এক পথ ধরে। ঠিক বাজার এর মধ্যে দিয়ে। তখন ও বুঝতে পারি নাই যে এরপর সবচে বড় মাইণকার চিপায় পরব। ১০ কদম যাওয়ার পর হটাৎ এক কত্তা আমার সামনে আইসা দাঁড়াইল। আমি এক কদম সামনে দিতেই ঘেউ ঘেউ করিয়া আমার প্যান্টের মধ্যে এক কামর বসাইয়া দিল। সঙ্গে সঙ্গে আরও ৯-১০ টা কুকুর আমারে ঘিরা ধরল। আর ঘেউ ঘেউ শুরু করল। একটা লাফ দিয়া আমার উপর ঝাপাইয়া পরল। উপায় না পাইয়া দিলাম এক ভূ দৌড়। আমার সামনে ২ টা পাশে ৩-৪ টা আর বাকি গুলা আমার পিছনে। উনারা কামড়ানোর চেষ্টায় বার্থ। উনাদের ঘেউ ঘেউ শব্দে নাইট গার্ড ও আরও কয়েক জন বাঁশি ফুয়াতে ফুয়াতে দৌরে আসছে... বুঝতে আমার আর বাকি নাই যে "ধরা পরলে কুকুরের কামর আর মানুষের হাতে গণ মার খাইয়া চোর এর অপবাধ ঘারে লইয়া এ জনম চিরতরে ত্যাগ করিতে হইবে।" আমি কোন রকম বাজার টা পাস করিয়া এক দৌড় এ খালার বাড়ির রাস্তায় গিয়া উঠিলাম। খেয়াল করিলাম কুত্তা বাবাজীরা আর আমার পিছনে নাইকা। হাফ ছারিয়া বাঁচিলাম। বুঝিলাম আমি এখন উনাদের (কুত্তা) আওতার(বাজার) বাহিরে। খালাত্ত ভাই স্যাম আজগর রে ফোন দিলাম। হালার মোবাইল বন্ধ। ওহার বিগ ব্রাদাররে ফোন দিলাম। এরপর তাহারা আইসা গেইট খোলিল। আবশেসে পোঙ্গামারা সহ্য করিতে করিতে রাত ৩ টায় বাসায় গিয়া পৌঁছলাম। পৌঁছতে না পৌঁছতে খালাত্ত ভাই স্যাম আজগর জিগাইতাছে ব্যান্ডউইথ আন্সি নাকি?? আমি ত টাসকি !! আবে হালায় কয় কি ?? জান লইয়া আইবার পারি না । আর হালায় ব্যান্ডউইথ(বিড়ি) চায়। আমরা এক সাথে অন লাইন এ কাজ করি তাই সব কিছুকে একটু ভিন্ন ভাবে বলি। যেমনঃ বিড়ি=ব্যান্ডউইথ । এরপর একটা গোসল দিলাম। আর খেয়াল করলাম, কুকুরের কামরে ২ যায়গাতে প্যান্ট চিঁরে গেছে। ঐ দিন রাতে ৩ পিছ বিস্কুট ছাড়া কপালে আর কিছুই জোটেনী।

Monday, March 5, 2012

বাঙ্গাল ছলছিত্র লালটিপ দর্শন থুক্ক ধর্ষণ !! :P

বেশ কিছুদিন হইতেই দেশ ও জাতির চিন্তায় নিদ্রা আসিতেছিলো না।এই অধম খালি ফেসবুক আর ব্লগ তোলপাড় করিয়া ফেলিতেছে,অথচ দেশ ও জাতির উন্নয়নের জোয়ারে তাহার ভুমিকা কি?এরুপ চিন্তায় আচ্ছন্ন হইয়া ভাবিলাম কিছু একটা করা দরকার।তবে দূর্যোধন যেহেতু সাধারন কিছু করিয়া উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিবেনা ,সুতরাং অসাধারন কিছু একখানা করার বাসনায় ভাবিলাম-সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বাঙ্গালা চলচ্চিত্রের দর্শন করিয়া দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখি।



৫৫ টাকার টিকেটে কি আর অত অর্থনীতির চাকা সচল হয়? সুতরাং বসুন্ধরার প্রেক্ষাগৃহে যাইয়া ১৫০ টাকার টিকেট কিনিয়া স্বেচ্ছা-পোঙামারা খাইবার ব্যবস্থা করিলাম। পোঙামারা খাওয়া সুদৃঢ় করিবার নিমিত্তে সর্বভুক একখানা ছোটভাইকে খবর দিলাম।লাফাইতে লাফাইতে উহাকে লইয়া বসুন্ধরায় হাজির হইলাম।উহাকে বলিলাম,'কি ছবি দেখা যায় ?'' ,একগাল হাসিয়া ছোটভাই বলিলো,''কুসুমের রান'' । থতমত খাইয়া গেলাম,বলে কি? এরুপ অশ্লীল নামের ছবি বসুন্ধরার মতন সুশীল সমাজে?দেশটা রসাতলে গেলো বুঝি !মনের ভাব পড়িতে পারিয়া ছোটভাই বলিলো,''আজ্ঞে,লাল টিপ দেখিবো'' ।

রাগ হইলাম,বলিলাম,''তবে কুসুমের রান বলিলি কেন'' ? , চালিয়াৎমার্কা হাসিয়া ছোটভাই বলিলো,আজ্ঞে,স্লিপ অফ টাং,উক্ত পোস্টার দেখিয়া জিহবা পিচ্ছিল হইয়া গিয়াছে '' -বলিয়া পোস্টারের দিকে আঙুল তুলিলো।


পোস্টার দেখিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলিলাম, স্লিপ অফ টাং অথবা জিহবা পিচ্ছিল হওয়াই স্বাভাবিক।দেশ ও জাতির অর্থনীতির চাকা সচল করিতে উহাকে টাকা ধরাইয়া দিলাম,ছোটভাইকে অভিজ্ঞ মনে হইলো।দুদ্দার করিয়া এক্সপার্টের ন্যায় টিকেট কাটিয়া মায় অন্ধকারের মাঝে সীটও খুজিয়া বসাইয়াও দিলো !

বসিতে না বসিতেই খেয়াল হইলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শককূল জোড়ায় জোড়ায় বসিয়া আছে,আমার ঠিক বাদিকেই আসিয়া বসিলো প্রেমাতুর কপোত-কপোতি আর ডানদিকে ছোটভাইয়ের পাশে বসিলো এক হতচ্ছাড়া বছর দশেকের হোৎকা বালক।ছোটভাইকে বলিলাম,'এই হোৎকা বালক বাংলা ছবি দেখিতে আসিয়াছে,নির্ঘাত স্কুল পালাইয়াছে,দেশের বালকসমাজের অবক্ষয়....উহার মা-বাবাকে পাইলে উচিত কথা শুনাইয়া দিতাম..... ''ইত্যাদি !!

ছোটভাই আশ্বস্ত করিলো,'উহার পাশে উহার মা-ও আছে '' ! ভীমদর্শন মহিলার বপু দেখিয়া কথা আর বাড়াইলাম না।

ছবি শুরু হইতে না হইতে সবাই দাড়াইয়া গেলো,ছোটভাই বলিলো,উঠেন উঠেন !! আমি বুঝিতে পারিলাম না কি হইয়াছে ! সে বলিলো,জাতীয় পতাকা খাড়া করা হইয়াছে,তৎক্ষনাৎ আমার দেশপ্রেম জাগিয়া গেলো,বুকের বাম হাত ঠেকাইয়া সম্মান প্রদর্শন করিতে গিয়া খেয়াল হইলো,সামনে আরেকজোড়া ককপোত-কপোতী নিজেদের মাঝে প্রেমপ্রদর্শনে ব্যাকুল।
'ওরে,এইখানে খাড়া না হইলে ঐখানেও খাড়া হইবেনা রে !!' বলিয়া হাঁক দিতে গিয়া থামিয়া গেলাম।সুশীল প্রেক্ষাগৃহের সম্মান বলিয়া কথা !!


ছবি শুরু হইলো,মহান পরিচালক বাঙালকে প্যারিস দেখানো শুরু করিলেন।প্যারিসের বিশিষ্ট বাঙালী সাচ্চু সাহেব ও তার স্ত্রী মেমী শ্যালিকা নিধি (কুসুম শিকদার) ও তাহাদের একখান কন্যা (শিশুটির নাম খেয়াল নাই,বড়ই কিউট) লইয়া সমাজসেবা করিতে ব্যস্ত।কুসুম শিকদারের সহিত তাহারা অর্নব (ইমন) নামক রমনীর বিবাহ করানো ঠিক করিয়া ফেলিয়াছেন।কিন্তু কুসুম শিকদার আবার আরেকখানা ইয়ে,উনি তাহার বিদেশী বয়ফ্রেন্ড লরেনবাবুকে চুম্মা দিতে দেন না,কারন তাহার কাছে দেশ-মাতৃকা-সমাজ-সংস্কৃতি ইত্যকার বিষয় ''আগে আসলে আগে পাইবেন ভিত্তিতে'' থাকে।তবে উনি আবার বাঙাল মুলুকের রাজকন্যা ইমনকে বিবাহ করিতে চান না।

সাচ্চু সাহেব ঠিক করিলেন কুসুম রাজি না হইলেও ইমনের সাথে উনি বিবাহ বসাইয়া ছাড়িবেনই।সুতরাং কুসুম তাহার স্ম্লেচ্ছ বয়ফ্রেন্ডের বাসায় পালাইয়া যাওয়া ঠিক করিলেন।এইখানে দেখিলাম আজব কাহিনি,সারা জীবন শুনিয়াছি মানুষ এক কাপড়ে পালায়,উনি দেখি রাস্তাঘাটে টুকিটাকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যা কিছু আছে,সব সংগ্রহ করিয়া গায়ে জড়াইয়া লইয়াছেন(একটা জিনিস অবশ্য কমন-উহা হইলো লং আন্ডু,যাহাকে আপনারা টাইটস বলিয়া থাকেন ) ।উহার বয়ফ্রেন্ড আবার বিশ্বপ্রেমিক টাইপ মহাপুরুষ,এই বয়ষ্ক প্রেমিককে পরিচালক কোথা হইতে যোগার করিয়াছেন আল্লা মালুম !আধাবুড়া লরেন সাহেব আবার গোটাদশেক বান্ধবীর সাথে রাতযাপন করেন,কুসুমকে 'ইন্ডিয়ান মসলা' বলিয়া হালকা রগড়ও করেন,মানে ব্লগীয় পরিভাষায় ব্যাটা একখানা লুল !

তো,কুসুম পালাইয়া লরেন সাহেবের বাসায় চলিয়া আসিলেন,ঐদিকে প্যারিসের বাঙালী কম্যুনিটিতে ছিছি পড়িয়া গেলো,ইমন সাহেব কুসুমকে খুঁজিতে বাহির হইলেন।লরেন কুসুমকে বলিলেন,সন্ধ্যা ৬টায় উনি ফিরিবেন।সুতরাং ততক্ষন কুসুম যেন বিশ্রাম করিয়া লয় ( হারামজাদা আপিসে করেটা কি ?পুরা ছবিতেই উহাকে রগড় করিতে দেখিলাম।কে জানে রগড় করাই তাহার চাকরি কিনা ) !
ঐদিকে কুসুম তাহার বয়ফ্রেন্ডের বাসায় ঘি মাখন তেল খুজিতে গিয়া পাইলেন গোটাতিনেক ছেড়া কনডোম ! ছোটভাই বলিলো,ইহা কি ??আমি আহলাদিত হইয়া বলিলাম,পরিচালকের সিম্বোলিক শট দেখিয়াছিস?কনডোম দেখাইয়া বুঝাইয়া দিলো-লরেন ক্ষমতাবান,রুপবান,গুনবান এবং বীর্যবান!!
এরসাথেই কুসুম পাইলেন একখানা ব্রা আরেকখানা রাতপোষাক (উহা কি,তা নিশ্চিত হইতে গিয়া ছোটভাইয়ের দিকে তাকাইলাম,সে দেখি হাঁ করিয়া ব্রা গিলিতেছে )।কুসুমের সাথে সাথে দর্শকও বুঝিলো লরেন ব্যাটায় লুল,তাহাদের আহাউহুঁ শুনিয়া আমিও বুঝিলাম-ফরিদুর রেজা টাকলু আর পরিচালক ব্যাটাও লুল।এরই মাঝে লরেনের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করিলেন লরেনব্যাটার এক্স গার্লফ্রেন্ড।উনি কাঁদিয়া কাটিয়া বলিলেন লরেন আরো ৭০ মহিলার সাথে রগড় করিতেছে ( রোসো ! ব্যাটা ইহজনমেই ৭০টা হুর পাইয়া গেলো)। এতগুলা কনডোম আর বক্ষবন্ধনী দেখিয়া ভয়েই কিনা,কুসুম পালাইলেন।

কুসম পালাইলেন,তাহাকে ধরিতে লরেন ব্যাটায় সন্ধ্যা ৬টায় আসিলো!( কুসুমের রূপেই কিনা,চারিদিকে তখন দিবা ১২ ঘটিকার আলো !! ) দুঃখের গান ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজিলো,ইমন একখানা পুল ধরিয়া হাটিতে হাটিতে কুসুমকে খুঁজিতে লাগিলেন,আমিও নিশ্চিত হইলাম এইবার হইবে থ্রীসাম ,মানে তিনজনের দেখা।আমার অভিজ্ঞতা ভুল প্রমান হইলোনা,লরেন আসিয়া বলিলো কুসুমকে লইয়া সে হানিমুন বানাইয়া ইয়ে করিবে,ইমন সাহেবের পৌরুষে লাগিলো,উনি একখানা ঘুঁষি হাকাঁইলেন,ফলাফলস্বরুপ লরেন সাহেব ভূপাতিত।ছোটভাই বলিলো,''ধুস শালা!এক ঘুঁষিতেই শেষ ?'' । আমি বলিলাম,'' লরেন সাহেবের ৭০ হুর পুষিতে খরচটা কোন দিক দিয়া যায়,তা যদি বুঝিতে !! ''
অবিবাহিত ছোটভাই চুপ মারিলো।
এরপর যা হইবার তাই,ইমন সাহেবের ফ্ল্যাটে গিয়া কুসুম উঠিলেন,ইমন সাহেব তার সতীপনা দেখাইতে পার্কে গিয়া ঘুমাইলেন।এর মাঝে কুসুমও ঘুম হইতে উঠিয়া নাচিয়া কুঁদিয়া লইলেন,অতঃপর বাহিরে গিয়া দেখিলেন ইমন সাহেব কোনো এক বিদেশিনীর সাথে গাল ঘষাঘষি করিয়া সম্ভাষন জানাইতেছে।ইহাতে তাহার খুব রাগ হইলো,ইমনের সাথে সম্পর্কছেদের ঘোষনা দিলেন।

ইন্টারমিশন শুরু হইতেই সর্বভুক ছোটভাই বলিলো ক্ষুধা লাগিয়াছে।ভয়ে ভয়ে বলিলাম বাইরে চলো,বিড়ি টানিয়া আসি।সে হাস্যভরে তাচ্ছিল্য করিয়া বলিলো,বাহিরে যাওয়া যাইবেনা,ওয়ান ওয়ে টিকেট। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের প্যাকেট দেখিয়া উহাকে আঙুল দেখাইয়া বলিলাম,উহা খা। সে বলিলো,''পপচিকেন ?'' ।মুর্খ আমি মাথা নাড়াইয়া সায় দিলাম।বিল দিতে গিয়া দেখি ভালোই খসিলো,বলিলাম ''ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কি এত দামী নাকি রে ?'',সে বলিলো,আপনি পপচিকেন চেনেনা ?মুরগীর প্যাকেটের দিকে তাকাইয়া পোঙামারা হজম করিলাম।

ইন্টারমিশন শেষ হইতেই আবার গান শুরু।কুসুম শিকদার সপরিবারে টাঙাইল চলিয়া আসিয়াছেন,তবে এই মোবাইলের যুগে উনি ইমন কে তাহার আসিবার কথা জানাইতে বেমালুম ভুলিয়া গিয়াছেন।নিশ্চিতভাবেই উনি উনার জোড়াতালি মার্কা পোষাকগুলি আনিতে ভুলেন নাই।ঐ গন্ডগ্রামের মাঝেই উনি গামবুট,কোট,মিনিস্কার্ট,ফ্রক এবং অবশ্যম্ভাবীরুপে টাইটস পরিয়া ঘুরিতে লাগিলেন।ইমন সাহেবও প্যারিস হইতে ঢাকায় চলিয়া আসিলেন।শুরু হইলো খোঁজ দ্যা সার্চ।খিক খিক হাসি শুনিয়া পাশের কপোত কপোতীর দিকে তাকাইলাম,নিজেদের মাঝেই কুসুম আর ইমন কল্পনা করিয়া লীলাখেলা শুরু হইবে হইবে অবস্থা। নজর চলচ্চিত্রের দিকে ফিরাইলাম,সবাই তো আর দূর্যোধনের মত সাধু নহে।

এইদিকে ভাঁড়ামী কিছু চরিত্র থাকিতেই হয়,এই ছবিতে তাহার ব্যাতায় ঘটিলোনা। চেয়ারম্যান চাচা আর ভাতিজা মিলিয়া গনহারে কাতুকুতু দেয়া শুরু করিলেন।হাই তুলিয়া আমি পাশের হোৎকামত বালককে চোখ মারিলাম,''ছবি কিবা ??'',বালক বলিলো,''বলিউড নকল'' । আমি আবার চোখ মারিলাম,''নায়িকা কি বা?? '',বালক আমাকে হতভম্ব করিয়া চোখ মারিলো,বলিলো-''জব্বর''।

হতচকিতভাবটা কাটাইয়া আবার নজর দিলাম,ইউনেস্কোতে ফোন করিয়া কুসুম ইতমধ্যে ইমনের বাংলাদেশের ঠিকানা জানিয়া গিয়াছে বলিয়া গুরুনিতম্ব দুলাইতেছে,অন্যদিকে ইমন বন্ধুর মাধ্যমে কুসুমের গ্রামের বাড়ীর ঠিকানা জানিয়া গিয়াছে বলিয়া বিশেষ অঙ্গ দুলাইতেছে,পাশে আমার ছোটভাইয়ের শরীর দুলিতেছে বলিয়া উহার দিকে তাকাইলাম।সে উক্ত বালকের সাথে বাহাসে ব্যস্ত ।বলিলাম,''কি হইয়াছে?'' ছোটভাই বলিলো,''পানির বোতল রাখিয়াছিলাম,হোৎকাবালক দাবী করিতেছে এই বোতল নাকি উহার !!''। ঘটনা দেখিয়া সিদ্ধান্তে আসিলাম,বালক খালি চরিত্রহীনই নয়,চোট্টাও বটে !

এরইমাঝে হারাইয়া যাওয়া নায়ক-নায়িকার দুইজনের একত্রে কোনো এক স্থানে দেখা হইয়া যাইবার সম্ভাবনা দেখা দিলো।আমি ছোটভাইকে বলিলাম ,'ছবি শেষ হইতে কতক্ষন আছে'? সে বলিলো '২৫ মিনিট' । আমি বলিলাম,'নায়ক নায়িকার দেখা হইবেনা।'আমার ভবিষ্যতবানী অক্ষরে অক্ষরে মিলিলো,বিশালাকায় নিতম্বের অধিকারিনীর পিছন দিয়া ভুঁড়ি ঠেলিতে ঠেলিতে নায়ক চলিয়া গেলো,কেউ কাহাকেও দেখিলোনা।

এইবার খবর আসিলো নায়ক সাহেবের অংকিত ফটুক প্যারিসের কোনো এক মিউজিয়াম কিনিয়া নিয়াছে বলিয়া তাহার ইন্টারভিউ নিবে রেডিও ফুর্তি।ঐদিকে নায়িকা ঠিক করিলো সে ইমন কে খুঁজিতে চলিয়া যাইবে প্যারিস।নায়িকা রওনা দিলো এয়ারপোর্টে।অন্যদিকে রেডিও ফুর্তিতে বকবকবকবক করিতে করিতে আরজে মহিলা ঘোষনা দিলো,এইবার আপনার সামনে আসিবেন বিশিষ্ট লেখক,রম্যকার,নাট্যকার,চলচ্চিত্রকার,গীতিকার,সুরকার,ফিচারিস্ট,কলামিস্ট,বলারিষ্ঠ,সারিবাদ্যরিষ্ঠ আনিসুল হক । থুক্কু ইমন। উনার সাথে কথা বলিতে হইলে ইয়েস চাপুন আর মেসেজ করুন এই এই নাম্বারে ,আর কথা না বলিতে চাইলে নো চাপুন আর মেসেজ করুন এই এই নাম্বারে ইত্যকার বকবকবকবক !!

কুসুম ধুপ করিয়া ফোন লাগাইলেন,ঘোৎঘোৎ করিতে গিয়া খেই হারাইলেন,নায়ক ব্যাটা অনুষ্ঠান ফালাইয়া এয়ারপোর্ট বরাবর দৌড় ঝাড়িলেন। ছোটভাইকে বলিলাম ''ফিল্ম আর কতক্ষন আছে? '' ।ছোটভাই ইংগিত বুঝিয়া বলিলো,''এইবার দেখা হইবেই '' ।বিজ্ঞের মত মাথা নাড়াইয়া আমিও সায় দিলাম,এইবার দেখা হইবেই।ইমন আসিয়া দেখিলেন প্লেন উড়িয়া গিয়াছে,রাখিয়া গিয়াছে ধুম্র।আমি বলিলাম নায়িকা পিছন হইতে হাত রাখিবে,ছোটভাই বলিলো লাল কাপড় পরিয়া আসিবে।

নায়িকা পিছন হইতে লাল নেইলপলিশ লাগানো হাত নায়কের পিঠের উপর রাখিলেন,আমি আর আমার ছোটভাই প্রশংসার দৃ্ষ্টিতে একজন আরেকজনের দিকে তাকাইলাম।ছবি শেষ হইলো,আমি চলচ্চিত্রের পজেটিভ দিক খুঁজিতে লাগিলাম-

@কুসুম বড়ই পর্দানশীন বাঙালী নারির চিত্রে মানাইয়া গিয়াছেন,।পুরা ছবিতেই নায়ক হইতে শুরু করিয়া সবাইকেই টিশার্ট ও হালকা কাপড়ে দেখিলাম,কিন্তু কুসুম শিকদার পর্দা বাড়াইবার জন্য একটার উপর আরেকটা কাপড় পড়িয়াই গিয়াছেন।
@কুসুম শিকদার কাপড় বানাইতে গিয়া সময় নষ্ট করেন নাই,রেডিমেড কাপড় পড়িয়াছেন।তাহার সবগুলা ব্লাউজ হয় হাতা,না হয় পিঠ ঢিলা হইয়া ঝুলিতেছিলো।অবশ্য ব্লাউজগুলো হস্তিকুলের জন্য বানানো হইয়াছিলো কিনা জানিতে পারিনাই।
@স্কুলের পিটি করানো শিক্ষকেরা নির্দ্বিধায় এফডিসিতে চাকুরি খুঁজিতে পারেন,আমার দেখা সেরা নৃত্যমুদ্রা এইখানে দেখিলাম,যেন ড্রিল করিতেছি ! হক মওলা !
@আলুর নতুন ইংরেজি 'টাইটস' হইতে পারে,কেননা আলুই একমাত্র খাদ্য যাহা সব তরকারীতে দেয়া যায়।টাইটসও একমাত্র বস্ত্র যাহা ফ্রক,মিনিস্কার্ট এমনকি রাতপোষাক ও শাড়ীর নিচেও পড়া যায়।জয়তু কুসুম 'টাইটস' শিকদার !
@ইমন খুব ভালো অভিনয় করিয়াছেন।নায়িকার চরিত্রে উনাকে ভালই মানাইয়াছে।ন্যাচারাল।
@যাহারা প্যারিস যান নাই,তাহাদের জন্য মাস্ট সী মুভি।কাহিনির তুলনায় পরিচালক প্যারিসের চ্যাম্পস সিসেলি,মিউজে ডি অরস,আইফেল টাওয়ার আর রাস্তাঘাট ঘুরাইয়া ফিরাইয়া বারবার দেখাইয়াছেন।এই মূহুর্তে আমাকে প্যারিসের রাস্তায় ছাড়িয়া দিলে ফ্রেঞ্চ কোনো নাগরিকের আগেই পৌঁছাইতে পারিবো।একই কথা গানের ক্ষেত্রেও খাটে,কুমিরের বাচ্চার মতো বার বার শুনিয়া মুখস্ত হইয়া গিয়াছে।
@বিদেশীদের সাথে আমাদের ইংরাজীর দৌড় দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছি,প্রথমে বুঝিতেই পারিনাই,আমি বাংলা ছবি দেখিতেছি নাকি ফ্রেঞ্চ মুভি।ছোটভাই ভুল ধরাইয়া দিয়াছে,উহারা নাকি ইংরেজীতে কথা বলিতেছিলেন।
@ক্যামেরার কাজ দুর্দান্ত হইয়াছে,ভদ্রলোক আর কিছুদিন ক্যামেরা ধরিলে দুষ্টলোকেরা কাপড় পরিহিতার সবই দেখিয়া ফেলিবে।কি তার এনাটমি জ্ঞান !!কি উপর হইতে ,কি নিচ হইতে !বাভুল,তুই বুখে আয় !
@কুসুম শিকদার,অসামান্য তার বস্ত্রজ্ঞান ! কনফিউজড ! হটপ্যান্ট পড়িয়া ভাবিলেন,বেশি দেখাইয়া ফেলিলাম?সুতরাং নিচে একখানা টাইটস পড়িয়া লইলেন,অতঃপর ভাবিলেন বেশি ঢাকিয়া ফেলিলাম? সুতরাং টাইটস গুটাইয়া হাঁটু পর্যন্ত আনিলেন।আহা !


বাহির হইতে গিয়া ছবির নাম খানা লালটিপ রাখিয়াছে কেন তাহার সন্তোষজনক উত্তর পাইয়া গেলাম । কেননা পাশের কপোত তাহার কপোতীকে টিপিয়া টিপিয়া ততক্ষনে লাল বানাইয়া ফেলিয়াছে।

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...